২য় কাঁচপুর মেঘনা গোমতী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

পটুয়াখালী ওয়েব রিপোর্ট॥

 ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের  কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতুর পাশেই নতুন তিনটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে মহাসড়কের প্রায় ১০৮ কিলোমিটার চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ শেষ হয়েছে।

দেশের অর্থনীতির লাইফ-লাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হলে এ মহাসড়কে আরও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাবে। এ বাস্তবতায় সরকার বিদ্যমান তিনটি সেতুর পাশে নতুন আরও তিনটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

দেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জাইকা’র অর্থায়নে চারলেন বিশিষ্ট ২য় কাঁচপুর, ২য় মেঘনা ও ২য় গোমতী সেতু নির্মাণ করা হবে।

সেতু তিনটি নির্মাণের জন্য গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নতুন তিনটি সেতু নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান তিনটি সেতুর (কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী) প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজও একই সঙ্গে করা হবে।

বুধবার সকালে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্মাণ বিষয়ক এক প্রেস বিফ্রিং কালে সড়ক পরিবগন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেও এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার সাথে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও সিলেটের নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে কাঁচপুর সেতুর প্রান্তে একটি ফ্লাইওভার ও ইন্টারসেকশন নির্মাণ করার তথা জানান তিনি।

২য় কাঁচপুর সেতুঃ
প্রায় ৪’শ মিটার দীর্ঘ ২য় কাঁচপুর সেতুর সাথে ৭’শ মিটার দীর্ঘ ৮ লেন বিশিষ্ট আপ্রোচ সড়ক নির্মাণ ও পুরনো সেতু সংস্কার করা হবে।

২য় মেঘনা সেতুঃ
চারলেন বিশিষ্ট ২য় মেঘনা সেতুটি হবে প্রায় ৯৩০ মিটার দীর্ঘ, এর সঙ্গে ৬ লেন বিশিষ্ট ৮৭০ মিটার এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ ও পুরনো মেঘনা সেতু সংস্কার করা হবে।

২য় গোমতী সেতুঃ
পুরনো গোমতী সেতুর পাশে চারলেন বিশিষ্ট ১ হাজার ৪১০ মিটার দীর্ঘ ২য় গোমতী সেতু নির্মাণ ও ১ হাজার ১০ মিটার দীর্ঘ ৬ লেন বিশিষ্ট এপ্রোচ সড়ক নির্মাণসহ পুরনো সেতুর সংস্কার করা হবে।

সম্ভাব্যতা যাচাই, পরামর্শক নিয়োগ, নতুন সেতু নির্মাণ, পুরনো সেতুর পুনর্বাসন, নির্মাণকাজ তদারকি, কাঁচপুরে একটি ফ্লাইওভার ও ইন্টারসেকশন নির্মাণসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা।

এরমধ্যে জাইকা’র প্রকল্প সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট টাকার জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার।

ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, পরামর্শক নিয়োগ, বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। অর্থায়নকারী সংস্থা হতে দরপত্র আহ্বানের সম্মতি পাওয়ার প্রেক্ষিতে এ আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল দরপত্র গ্রহণের শেষ দিন।

সেতু নির্মাণের জন্য সেপ্টেম্বর ২০১৫ এ ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হবে। এ বছরের নভেম্বর মাসে সেতু তিনটির নির্মাণকাজ শুরু করা  হবে মন্ত্রী জানান।

পটুয়াখালী ওয়েব/২০১৫/অপ

তারিখ : ২০১৫-০১-২১ সময় : ০০:৫১:৫১ বিভাগ: জাতীয়