বদলে যাচ্ছে কুয়াকাটার যোগাযোগ ব্যবস্থা-নির্মানাধীন ৩ টি সেতুর কাজ শেষের পথে

পটুয়াখালী ওয়েব রিপোর্ট॥

খান এ রাজ্জাকঃ

বদলে যাচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। কুয়াকাটা- কলাপাড়া মহা-সড়কের তিনটি নদীতে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ শেষের পথে। জুনের মাঝামাঝিতে শিববাড়িয়া নদীতে শেখ রাসেল সেতুটি অনানুষ্ঠানিকভাবে উন্মক্ত করা হবে এমন খবরে এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে নতুন স্বপ্নের সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার আন্ধারমানিক, হাজীপুর ও সোনাতলা নদীতে নির্মিত এ তিনটি সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে পর্যটন ব্যবসা, মৎস্য ব্যবসা ,শিক্ষা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, স্বাস্থ্য সেবা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পরবে। প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সুর্যাস্তের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে শত শত পর্যটক সপরিবার এখানে আসেন। কিন্তু কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহা সড়কে তিনটি ফেরি পারাপারে  সময় নষ্ট হওয়ায় তাদের ভোগান্তিতে পরতে হত।

সড়ক ও জনপদ সুত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে সড়ক পথে কুয়াকাটার দুরত্ব ৯২ কিলোমিটার। কিন্তু কলাপাড়া- কুয়াকাটা সড়কের মাত্র ২২ কিলোমিটার সড়ক পথে ওই তিনটি নদীর ওপর শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল সেতুর কার্যক্রম ২০১২ সালে শুরু হয়। ১৩৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি সেতুর নির্মাণ কাজ মাঝপথে ঢিলে ঢালে ভাবে চললেও এখন চলছে পুরোদমে।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় কুয়াকাটা ছিল অবহেলিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ছিলনা। বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক সম্পূর্ন সম্পন্ন হয়েছে। ব্রীজ তিনটির দ্বার উম্মোচন হলে দক্ষিনাঞ্চালের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লাবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে তারা জানিয়েছেন।

আলীপুর বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী আমানো ফিসের স্বত্তাধীকারী মো. আনোয়ার খান বলেন, তিনটি ফেরি পার করে মাছ পাঠাতে ভোগান্তিতে পরতে হয়। সেতু গুলো চালু হলে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আসবে।

কুয়াকাটা হোটেল -মোটেল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও কুয়াকাটা গেষ্ট হাউজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ জানান,এক সময় কুয়াকাটাবাসী  যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবহেলিত ছিল। সেতু তিনটির কাজ সম্পন্ন হলে উপকুলের মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.জহিরুল ইসলাম জানান, শেখ কামাল সেতুর দৈর্ঘ্য ৮৯১ দশমিক ৭৬ মিটার, শেখ জামাল সেতুর দৈর্ঘ্য ৪৮২ দশমিক ৩৭ মিটার, শেখ রাসেল সেতুর দৈর্ঘ্য ৪৩৬ মিটার। তিনটি সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শেখ রাসেল সেতুর ৯৫%, শেখ জামাল সেতুর ৮৩% ও শেখ কামাল সেতুর ৮৭% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় শিববাড়িয়া নদীতে নির্মাণাধীন শেখ রাসেল সেতুটি পরীক্ষামূলকভাবে উম্মক্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।  ###

 

পটুয়াখালী ওয়েব/২০১৫/অপ

তারিখ : ২০১৫-০৫-১৮ সময় : ১১:৩৪:৪৮ বিভাগ: কলাপাড়া