পটুয়াখালী কমলাপুর ইউনিয়নের রাস্তার দু’পাশের গাছ কাটার হিড়িক

পটুয়াখালী ওয়েব রিপোর্ট॥
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী কমলাপুর ইউনিয়নের চর মৈশাদী গ্রামের ইট ভাটা সংলগ্ন নদীর পাড়ের রাস্তার দু’পাশের গাছ কাটার হিড়িক পড়েছে। কমলাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছালাম মৃধার নির্দেশে মোঃ শহিদুল মাঝি ও জলিল চৌকিদার প্রকাশ্যে এ গাছকাটা হয়েছে  বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত ১১ জানুয়ারি গাছ কাটার দিন স্থানীয়রা গাছ রক্ষাকারী স্থানীয় সভাপতি মোঃ বারেক খাঁকে জানালে সে তাৎক্ষণিক  বন প্রহরী মোঃ জাহাঙ্গীর কে জানায়। পরে বনপ্রহরী জাহাঙ্গীর ফরেষ্টার ছালামকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ তাদের জিম্বায় নিয়ে যায়। গাছ উজাড় হওয়ার পর ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে বনবিভাগ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও একটিও কাটা গাছ উদ্ধার করতে পারেনি।


স্থানীয় নজরুল ইসলাম জানায়, বন প্রহরী জাহাঙ্গীর রেন্ট্রী গাছ আমার জিম্বায় দিয়েছে কিন্তু অন্য গাছ স্ব-মিলে দিয়ে কেটে তাদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে পাশের ইট ভাটায় দিয়েছে। বনপ্রহীর জাহাঙ্গীর পোস্টিং ঐ এলাকায় না হলে সে নিজেকে বন কর্মকর্তা পরিচয় দেয়।
রব চৌকিদার জানায়,  শুকনা আকাশমনি গাছ স্থানীয় একটি লোকে কেটেছে তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা খেয়ে জাহাঙ্গীর গাছ তার জিম্মায় নিয়ে সেটাও  ইট ভাটায় বিক্রি করে। এ বিষয়ে কেউ কিছু বলতে গেলে তাদেরকে হুমকি দেয় তোরা কিছু বলতে গেলে তোদেরকে মামলায় দিব।
অহেদুল মাঝি জানান গাছ গুলো কি কারণে কাটা হয়েছে ও কিছু গাছ ইট ভাটায় দিচ্ছে এবং কিছু স্বরূপকাঠী নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিছু গাছ জাহাঙ্গীর নিজে কেটে বাসায় ফার্নিচার বানিয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, বনপ্রহরী জাহাঙ্গীর বিভিন্ন রাজনৈতিক লোকের দোহাই দিয়ে এলাকায় দিনের পর দিন গাছ কেটে সাবাড় করছে। এর আগেও বছর খানেক আগে গাছ কাটলে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাহাঙ্গীর এর অপসারণ চায় এলাকাবাসী।
তবে ৮/১০ টি বাবলা ও রেন্ট্রি এবং জেলাপি গাছ বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ গাছ কাটা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। যার মূল্য ৪ লক্ষাধিক টাকা। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, চর মৈশাদী ইউনিয়নের অনেকগুলি ২/৩ ফুট বেড়ের বিশাল বিশাল এ গাছ কাটা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকে জানান, আমি কাহারো নাম বলতে পারবোনা এসিএফ ও উধর্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন তাদেরকে আমি জানিয়েছি। তাদের নাম্বার জানতে চাইলে সে মোবাইল ফোনটা কেটে দেয়।


সরেজমিনে পরিদর্শনকালে জানায়, কমলাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছালাম মৃধা একটি স’মিল রয়েছে। যার কোন লাইসেন্স নেই। প্রতিমাসে বনপ্রহরী জাহাঙ্গীর স’মিল থেকে মাসোহারা আদায় করে থাকে। এই স’মিলে বাগানের গাছ কেটে চিরাই করে বিক্রি করা হয়ে থাকে। এছাড়া আরও অনেকগুলো স’মিল লাইসেন্স বিহিন রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  চেয়ারম্যান সালামের অবৈধ স’মিলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি এবং জাহাঙ্গীর এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আসলে তদন্ত করে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না। টাকা দিয়ে সে অফিস ম্যানেজ করেছে।

পটুয়াখালী ওয়েব/২০১৫/অপ

তারিখ : ২০১৫-০১-১৮ সময় : ১১:২৯:১৪ বিভাগ: পটুয়াখালী শহর


Patuakhakiweb Sponsors



ফেসবুকে আমরা


এই বিভাগের আরও খবর
  • পটুয়াখালীতে ৪৯টি কেন্দ্রে এসএসসি সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ
  • পটুয়াখালীতে শিবির ও ছাত্রদলের ১২জন কর্মী আটক
  • পটুয়াখালীতে আমনের বাম্পার ফলন হলেও হাঁসি নেই কৃষকদের মুখে
  • পটুয়াখালীতে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা সহ দুই ব্যবসায়ী আটক
  • পটুয়াখালীতে ৩ দিন পর অপহৃত শিশু উদ্ধারঃ আটক ১
  • পটুয়াখালীতে দক্ষিনা খেলাঘর আসরের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত
  • পটুয়াখালী সদরে ২,২১৯ জন জেলেকে আইডি কার্ড প্রদান
  • সংবিধানে রক্ষিত মৌলিক অধিকার সমূহের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকারঃ বিচারপতি জহিরুল হক
  • দুমকিতে অটো-টেম্পু কোন্দলে সংঘর্ষ ভাংচুর
  • পটুয়াখালীতে জেন্ডার কমিটির আয়োজনে ২৬ টি সেলাই মেশিন বিতরণ