ঝরনা অপহরণ নয়, ভালবেসে বশিরকে বিয়ে করেছে

পটুয়াখালী ওয়েব রিপোর্ট॥

 খান এ রাজ্জাক-কুয়াকাটা: ঝরনাকে পরিবারের জিম্মায় নিয়ে অপহরণ মামলা করে স্বামীসহ তার স্বজনদের ফাঁসানোর চেষ্টা করলে সংসার গড়তে ফের বশিরের হাত ধরে পালিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানা সংলগ্ন কোনপাড়া ক্লাব সংলগ্ন ইব্রাহিমপুর এলাকায়।
সুত্র জানিয়েছে, কুয়াকাটার শাহজাহান ওরফে শামীম আকনের কলেজ পড়–য়া মেয়ে ঝরনা। একই এলাকার মাইট ভাংগা গ্রামের সত্তার মোল্লার ঢাকা কলেজের আনার্স রেজাল্ট প্রত্যাশী বশির ঢাকায় পড়াশুনা করার সুবাধে পরিচয় হয়। দীর্ঘ দিনের চেনা জানা পর প্রেমে পরে তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে বশিররে পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখান করে ঝরনা পরিবার। ঈদুল আযহার বন্ধে কুয়াকাটায় এসে ঢাকায় ফেরার সময় ঝরনা ও বশির একত্রে সাকুরা পরিবহন গিয়ে নিজ নিজ বাসায় ওঠে । গত ১৯ অক্টেবর ঝরনা ও বশির পালিয়ে গিয়ে ভালবাসার সম্পর্ক বিয়ে রুপ দিতে কাজী অফিসে বিবাহ রেজিষ্ট্রি এবং পরের দিন ২০ অক্টেবর কোর্ট ম্যারেজ করে ম্যাজিষ্টেট আদালতে। ঝরনা বাবা তাদের এ বিবাহ মেনে না নিয়ে ২০ তারিখে কাফরুল থানা মেয়ে নিখোজ হয়ে এমন একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বশিরসহ সাত জনকে আসামী করা হয়।মামলানং-৩৭।একই দিন বিকেলে ঝরনাকে বশির কেন বিবাহ করেছে এবং পরিবারে কাছে হস্তান্তর করার জন্য শাহজাহানের ছোট ভাই নজির আকন কুয়াকাটার মৎস্য আলীপুর বন্দরে বশির’র বাবাসত্তার মোল্লাকে শারিরীক লাঞ্চিত করেছে। পরবর্তীতেমেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে বশিরের হাতে তুলে দিবে এমন প্রতিশ্র“তিতে ঝরনাকে ২ নভেম্বর জিম্মায় নেয় পরিবারের লোকজন। বাবা শাহজাহান আকন মেয়েকে পেয়ে তা রক্ষা না করে ৩ নভেম্বরঅপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই সরোয়ার আলমকে দিয়ে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ভিকটিম ঊদ্বারপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি নেয়। এতে পিতার অনুপস্থিতিতে ঝরনা আদালতে স্বীকারোক্তিতে বলেছেন তিনি আপরহণ হয়নি, ভালবেসে বশিরকে বিয়ে করেছে। পরে মেয়ে ঝরনাকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনসহ স্বামী বশির ও তার পরিবারের লোকজনকে মিথ্যা হয়রানি করার প্রতিবাদে ৩ ডিসেম্বর আত্মগোপনে থাকা বশিরের সাথে মোবাইল ফোনো যোগাযোগ করে সংসার গড়তে পালিয়েছে।
এ বিষয়ে ঝরনার বাবা শাহজাহান ওরফে শামীম আকনের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, উদ্বারের পর মেয়ের বক্তব্যে ভেবে ছিলাম জোরপূর্বক তুলে নিয়েছে। পুনরায় যখন চলে গেছে , ও (ঝরনা) আমার মেয়ে নয়, ওকে ত্যাজ্য ঘোষনা করব।
বশিরের স্ত্রী ঝরনা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বশিরকে ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করেছি।আনুষ্ঠানিকভাবে বশিরের হাতে তুলে দেবার প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ করায় সংসার গড়তে পুনরায় পালিয়েছি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই সরোয়ার আলম সমকালকে বলেন, মামলা চলমান রয়েছে। শুনেছি মেয়েটি (ঝরনা), ছেলেটি (বশিরের) সাথে ফের পালিয়েছে। আদালতের পুনরায় তাদের স্বীকারোক্তি প্রমান করবে অপহরণ হয়েছে।না তারা ভালবেসে বিয়ে করেছে

পটুয়াখালী ওয়েব/২০১৫/অপ

তারিখ : ২০১৫-০১-১৬ সময় : ১৫:৩৬:০৭ বিভাগ: কলাপাড়া