আমি চেয়েছিলাম মিলার তিন নম্বরে ব্যাট করুক, কোচ চেয়েছিলো আমাকে : ডি ভিলিয়ার্স

পটুয়াখালী ওয়েব রিপোর্ট॥

 ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩১ বলে সেঞ্চুরি করে নতুন বিশ্ব রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। দ্রুত সেঞ্চুরি করে শুধুমাত্র একটি রেকর্ডের ভাগিদারি হননি তিনি। হয়েছেন বেশ কিছু রেকর্ডের মালিকও। নিজের এমন ইনিংসে উৎফুল্ল ডি ভিলিয়ার্স। তবে ঐ সময় ডেভিড মিলারকে ক্রিজে চেয়েছিলেন তিনি। তবে কোচ চেয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী ডি ভিলিয়ার্সই ব্যাটিং করুক, ‘প্রথম উইকেট পতনের পর আমি চেয়েছিলাম তিন নম্বরে ব্যাট করুক ডেভিড মিলার। কিন্তু কোচ চেয়েছিলো আমি ক্রিজে যাই। ক্রিজে গিয়ে প্রথমে সেট হতে চেয়েছিলাম। তবে যা হয়েছে তা ভাগ্যের সহায়তায় হয়েছে।’
জোহানেসবার্গে টস জিতে দক্ষিন আফ্রিকাকে প্রথমে ব্যাটিং-এর আমন্ত্রন জানায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে ফিল্ডিং করার এমন সিদ্বান্ত যখন ক্যারিবীয় নতুন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার নেন, তখন একটুও কি ভাবতে পেরেছিলেন- আজ ‘ডি ভিলিয়ার্স’-ঝড় বইবে তার দলের বোলারদের উপর! ভাবেননি, ভাবার কথাও নয়। ডি ভিলিয়ার্স নিজেও তো ভাবেননি, কি হবে আজ!
উদ্বোধনী জুটিতে হাশিম আমলা ও রিলি রসউ ২৪৭ রানের জুটি গড়েন। এরমধ্যে দু’জনই পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। ১২৮ রান করে রসউ যখন আউট হন, তখন দলের স্কোর ৩৮ দশমিক ৩ বলে ২৪৭ রান। তবে আউট হবার কিছুক্ষন আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ড্রেসিং রুমে হয়ে যায় মিনি এক বৈঠক। দলের কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো চেয়েছিলেন, ‘তিন নম্বরে ব্যাটিং করুক ডি ভিলিয়ার্স।’ আর ডি ভিলিয়ার্স চেয়েছিলেন, ‘তিন নম্বরে ব্যাটিং করুক ডেভিড মিলার।’ এই একই বিষয় নিয়ে চার-পাঁচবার আলোচনাও হয় ডোমিঙ্গো-ডি ভিলিয়ার্সের মধ্যে।
অবশেষে কোচের কথা রাখলেন ডি ভিলিয়ার্স। যখন ক্রিজে গেলেন তখন দক্ষিন আফ্রিকার ইনিংসের ১১ দশমিক ৩ বল বাকী। ক্রিজে গিয়ে আমলার সাথে নিজের পরিকল্পনাও সেড়ে নেন ডি ভিলিয়ার্স। কথোপকথনটি ছিল এমন, ‘২/১ ওভার দেখে এরপর মারমুখী ব্যাট চালানো।’ কিন্তু তর সইলো না ডি ভিলিয়ার্সের। মুখোমুখি হওয়া নিজের প্রথম বলেই মিড-অন দিয়ে বাউন্ডারি হাকালেন তিনি। এরপর যেন আরও দুর্ধষ হয়ে উঠেন এবি।
১৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি স্পর্শ করে নতুন রেকর্ডের জন্ম দেন ডি ভিলিয়ার্স। ১৯৯৬ সালে সিঙ্গাপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন সনাথ জয়সুরিয়া। হাফ-সেঞ্চুরি করে আরও ভংকর হলেন প্রোটিয়াস অধিনায়ক। এরপরের ৫০ রান করেন মাত্র ১৫ বলে অর্থ্যাৎ ৩১ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করে আরও একটি নতুন রেকর্ডের জন্ম দেন ডি ভিলিয়ার্স। ২০১৪ সালের প্রথম দিনেই কুইন্সটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৬ বলে তিন অংকের কোটা স্পর্শ করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের কোরি এন্ডারসন। এবার সেটি নিজের দখলে নিলেন ডি ভিলিয়ার্স।
আর ইনিংস শেষে ৯টি বাউন্ডারি ও ১৬টি ওভার বাউন্ডারিতে ৪৪ বলে ১৪৯ রানে আউট হন ডি ভিলিয়ার্স। সবচেয়ে বেশি ওভার বাউন্ডারির মারার ক্ষেত্রে ভারতের রোহিত শর্মার পাশেও বসলেন তিনি। আর পুরো ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি সহায়তায় ২ উইকেটে ৪৩৯ রান করে দক্ষিন আফ্রিকা। আমলা করেন ১৫৩ রান। জবাবে ৭ উইকেটে ২৯১ রান তুলে ১৪৮ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় প্রোটিয়াসরা।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ ডি ভিলিয়ার্স ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিলো মিলার ব্যাটিং করুক তিন নম্বরে। কিন্তু কোচ চেয়েছিলো আমি ব্যাট করি। এরপর ক্রিজে গিয়ে ঠিক করেছিলাম, সেট হয়ে ব্যাটিং করবো। কিন্তু মনে হলো আক্রমনাত্মক ব্যাটিংই করা উচিত। আর যখন ৯২ রানে ছিলাম, তখন জানতে পারি দ্রুত সেঞ্চুরির রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে আমি। তাই সিঙ্গেলস খেলার চিন্তা-ভাবনা বাদ দিয়ে বাউন্ডারির দিকেই লক্ষ্য স্থির করি। আর যা হলো, তার সবই ভাগ্যের সহায়তায়। তবে আমলা ও রসউকে ধন্যবাদ দিবো। তারা আমার কাজটাকে সহজ করে দিয়েছে। নিশ্চিন্তে ব্যাটিং করতে পেরেছি। ধন্যবাদ জানাতে হচ্ছে কোচকেও। দারুন একটি সিদ্বান্ত নিয়েছে সে।’

পটুয়াখালী ওয়েব/২০১৫/অপ

তারিখ : ২০১৫-০১-১৯ সময় : ০৪:৫৮:২৭ বিভাগ: খেলাধুলা